
Download চীনের একটি প্রান্তিক এলাকার গ্রামবাসীদের জিন পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে তাদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশের ডিএনএ ককেশীয় বংশোদ্ভূত।
এই ফলাফল তারা হয়তো রোমান সৈন্যদের একটা হারানো অংশের বংশধর, এই ধারণাকে সমর্থন করে।
আরও জানতে ক্লারেন্স ছুয়া গিয়েছিলেন উত্তর পশ্চিম চীনের প্রান্তের গ্রামবাসীদের কাছে।
শহরের কেন্দ্রের তিনটি বিশাল মূর্তি ইয়ংছ্যাঙের অতিথিদের স্বাগত জানায়।
একজন সাধারণ চীনা কর্মকর্তা, একজন হুই-মুসলিম মহিলা এবং আরেকটি মূর্তি একজন রোমান সৈন্যের মতো দেখতে।
মূর্তির পাদদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী খেলছে।
আমি যখন তাদের জিজ্ঞাসা করলাম তাদের পূর্বপুরুষ রোমান ছিল কিনা তারা হেস��� দলের একটা মেয়েকে দেখিয়ে দিলো। তার কয়েক গোছা চুল হালকা বাদামী।
রোমান কিংবদন্তী সম্বন্ধে আমার অনুসন্ধিৎসা আমাকে ইয়ংছ্যাঙ থেকে ৩০ মিনিট দূরত্বের ঝ���লাইজাই গ্রামে নিয়ে এসেছে।
এখানের কিছু গ্রামবাসী নাকি নীল চোখ, লম্বা নাক এমনকি সাদা চুলের।
অনেক গ্রামবাসীর মতো স্থানীয় ওয়াং জু সউও মনে করেন তিনি রোমান সৈন্যদের একটি হারানো অংশের উত্তরপুরুষ।
“প্রচলিত আছে আমার চেহারা প্রাচীন রোমান সৈন্যদের থেকে এসেছে। ছোটবেলা থেকেই আমি আমার পিতামহদের কাছ থেকে এই গল্প শুনে আসছি। বড় হওয়ার পর গ্রামের অন্যরা আমার নাম ধরে ডাকতো না। তারা আমাকে বলে ‘ওয়াই গুও রেন’, একজন বিদেশী।”
ওয়াং এর চোখ বাদামী, অক্ষিকোটর বড় এবং নাক বিশাল।
এবং আজ তিনি চীনা রোমান উপকথা নিয়ে বেইজিং টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানের জন্যে রোমান সৈন্যদের মতো করে সেজেছেন।
গ্রাম কমিটির প্রধান হুয়াং ওয়াং ইয়ুন যোগাযোগটা ব্যাখ্যা করলেন।
“ষাট দশকের আগে আমরা ভাবতাম এই গ্রামবাসীদের চেহারা অদ্ভুত। যদিও আমরা চীনে রোমান সৈন্যদের কিংবদন্তী জানতাম কিন্তু আমরা তার আগে কোন বিদেশীকে দেখিনি। চীন উন্মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এমনই ছিল। পরে আমরা বুঝলাম আমাদের অনেক গ্রামবাসীই এই বিদেশীদের মতো দেখতে। ২০০৬ সালে পরীক্ষার জন্যে রক্ত নেওয়া হয় এবং দেখা যায় ৪৬ শতাংশের ডিএনএই ইউরোপীয়।”
ত্রিশোর্ধ লিউ ইং বলেন তার পরিবারের পুরুষদের ভেতর ককেশীয় ভাব প্রবল।
“আমার পিতামহের চোখ ছিল নীল আর দাড়ি ছিল হলুদ। আমার বাবারও তেমনি। তার ছিল খাড়া নাক আর নীল চোখ। ছোটবেলায় আমারও চোখ নীল ছিল কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে সেগুলো বাদামী হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সবাই আমাকে জার্মান, ইংরেজ বা ‘নীল চোখা’ বলতো।”
কিন্তু রোমান সৈন্যরা চীনে আসলো কিভাবে? লিউ ইং তার নিজের ব্যাখ্যা দিলেন।
“কাররায় এর যুদ্ধে রোমানরা হেরে যায়। পাঁচ থেকে ছয় হাজার সৈন্য পালাতে সক্ষম হয় এবং আস্তে আস্তে চীনের দিকে চলে আসে যেখানে চীনারা তাদের পশ্চিম সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব দেয়। ওই জায়গার নাম ছিল ‘লিকিয়ান’ যেটা আসলে রোমের আদি চীনা নাম।”
আনুষ্ঠানিকভাবে ১৬৬ খ্রিষ্টাব্দে দুই শক্তির দেখা হয়।
কিন্তু ১৯৫৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোমার ডাবস দাবি করেন রোমান সৈন্যরা একটি যুদ্ধে হেরে খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে এখানে পালিয়ে এসে আস্তানা গাঁড়ে।
বলা হয় তারপর তারা হানদের ভাড়াটে সৈন্য হিসাবে চীনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
চীনা উপকথায় সৈন্যদের ‘মাছের কংকালের মতো সাজানো’র কথা উল্লেখ আছে, অনেকটা রোমান সৈন্যদের ‘কচ্ছপের মতো সাজানো’র মতো।
আপনারা যদি হলিউডের ব্যাপক জনপ্রিয় চলচিত্র ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ দেখে থাকেন, তবে সেখানে দেখানো গ্ল্যাডিয়েটরদের বাক্সের মতো করে নিজেদের একসাথে ঢালের আড়ালে রেখে শুধু বর্শা বের করে রাখাটাই সেই সাজানো।
চীনারা এতোটাই মুগ্ধ হয় যে তারা তাদের ১৪৫ জনকে তিব্বতিদের বিরুদ্ধে প্রহরী হিসেবে লিকিয়ান নামের একটি ফাঁড়িতে রেখে দেয়। এখানেই বর্তমান ঝেলাইজাই গ্রামটি অবস্থিত।
সং গুওরং লিকিয়ান সংস্কৃতি গবেষণা সংস্থার সাথে জড়িত।
“নথিপত্র অনুসারে প্রাচীনকালে লিকিয়ানের অস্তিত্ব ছিল। লিকিয়ান চীনা ভাষায় রোমের আদি নাম। গ্রামবাসীরা রোমানদের উত্তরসূরি কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যায়না।”
উপকথার সৈন্যদের বানানো কেল্লার অংশবিশেষ বা অন্যান্য স্থাপনার খোঁজে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ওই এলাকা খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কিন্তু কিছু পণ্ডিত এখনও রোমান যোগাযোগের ব্যাপারে সন্দিহান।
সবকিছুর পরেও ঝেলাইজাই বহু প্রচলিত সিল্ক রোডের কাছে অবস্থিত এবং এই গ্রামবাসীরা চীনে আসা অন্য বিদেশীদের উত্তরসূরি হতে পারেন।
এবং আমি যতোই চীনের পশ্চিমে গিয়েছি ততই মনে হয়েছে সেখানে অন্য জাতির সাথে বিবাহ হাজার হাজার বছর ধরেই প্রচলিত।










