
Download ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকালীন অপরাধ তদন্তের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন শুরু করেছে। দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী দলের একজন বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল প্রথম অভিযোগ গঠন করলো।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলোয়ার হোসেন সাঈদির বিরুদ্ধে অন্যান্য অপরাধের সাথে গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। তবে অভিযুক্ত ওই নেতা তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের নেতা জনাব সাঈদিকে গত বছর গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
অভিযোগ গঠনের সময় এশিয়া কলিংয়ের প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যান আদালতেই উপস্থিত ছিলেন।
আজ সোমবার, আমি ঢাকার একটি বড় ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা জানতে পারবো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন অপরাধের দায়ে প্রথমবারের মতো আনা অভিযোগপত্রটি দাখিল করে কিনা। সিদ্ধান্ত জানতে আমি এখনই ভেত��ে ঢুকছি।
প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান ঘোষণা করলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদির বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ধর্মান্তরের মতো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা, হিন্দু ও বিরোধী দলের লোকদের বাড়ি লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
Q: একজন প্রসিকিউটর হিসাবে আজকের সিদ্ধান্তে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
A: প্রসিকিউটর হিসাবে আমার ব্যক্তিগত কোন প্রতিক্রিয়া নেই। ধন্যবাদ।
তবে শুনানি দেখতে আসা অন্য অনেকেই তাদের অনুভূতি জানালেন।
তাদেরই একজন ১৯৭১-র মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সিদ্দিকি।
আজকের সিদ্ধান্তে আপনার প্রতিক্রিয়া কি??
“আমি খুশি। এই দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। আমরা স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করেছিলাম। অল্প কিছু লোক শুধু স্বাধীনতার বিরুদ্ধেই ছিলনা বরং তারা স্বাধীনতার বিরোধীতাও করেছে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং তাদের বাড়িঘরে আগুনও দিয়েছে। বিশটির মতো অভিযোগ গঠনের কথা জানলেও এটিই প্রথম পদক্ষেপ। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া না গেলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। অার যদি প্রমানিত হয় তবে তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের বর্ষীয়ান নেতা সাঈদি তার বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের ক্ষেত্রেই নিজেকে নির্দোষ দাবী করেছেন।
তাজুল ইসলাম, সাঈদির আইনজীবীদের একজন।
“আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে আদালত ২০টির মতো অভিযোগ এনেছে। আদালতের নির্দেশ আমরা মানতে বাধ্য কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট নই। তাছাড়া আমরা মনে করি ট্রাইব্যুনালের সামনে আমরা অনেক আইনি বিষয় আলোচনা করেছি, প্রমাণের ভিত্তিতে অনেক বিষয় উত্থাপন করেছি। আমরা মনে করি আমরা যেসব প্রশ্ন তুলেছিলাম সেগুলোর ঠিকমতো জবাব দেওয়া হয়নি। এবং আমাদের মতে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনেক সুযোগ আছে। আমরা আজকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি রিভিউ পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও মনে করেন এ মাসের শেষে বিচারের জন্য যে দিনটি প্রস্তাব হয়েছে তার মধ্যে তারা মামলা লড়ার মতো প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন না।
“আমি মনে করি এটি সঠিক তারিখ নয়। এতে ন্যায়বিচার হবেনা কারণ ২৭ দিন যথেষ্ট নয়। আমাদের আইন বলে কমপক্ষে ২১ দিন। আমরা বারবার বলেছি যুদ্ধাপরাধের মতো মামলার প্রস্তুতির জন্যে এই সময় পর্যাপ্ত নয়। আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন ২০ টির মতো অভিযোগ গঠনে তদন্ত করতে আদালতের এক বছর সময় লেগেছে। কাজেই এর বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের সেরকমই সময় দরকার। কাজেই মামলা লড়ার প্রস্তুতির জন্যে ২৭ দিন একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার। এতে ন্যায়বিচার হবেনা।”
সরকারি হিসাবমতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়া ঠেকাতে পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল। এরপর লাখ লাখ মানুষ মারা গেছেন এবং হাজার হাজার মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন।
পাকিস্তানী শক্তির সাথে যোগ দিয়ে যুদ্ধের মাসগুলোতে নৃশংসতার দায়ে অভিযুক্তদের বিচারে গত বছর বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দুইজন সহ বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাতজনের মধ্যে সাঈদি একজন।
তাদের সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়নতারচ অভিযোগ এনেছেন।
কিন্তু আদালতের করণাধ্যক্ষ মোঃ শাহিনুর ইসলাম ন্যায়বিচারের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
“ট্রাইব্যুনালটি ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী চলছে এবং ট্রাইব্যুনাল প্রণীত আইনগুলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপায়ে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা মেনে করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠনের উদ্বেগ সত্ত্বেও এখানে উভয় পক্ষের সমান সুযোগের ব্যাপারে কারও কোন দ্বিমত থাকবে না এবং এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল যথেষ্ট সচেতন।“
আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটির কার্যালয়ে প্রবেশ করছি এই কমিটি ১৯৭১ এর অপরাধের জন্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করার কাজ করছে।
তদন্ত দলের প্রধান আবদুল হান্নান খান।
“এই মুহূর্তে আমরা সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছি এবং আপনারা জানেন আমরা একটি একটি করে তদন্ত শেষ করে আদালতে জমা দিয়েছি।“
আমি তার কাছে সাঈদির বিরুদ্ধে ৪০ বছর আগে করা অপরাধের অভিযোগের তদন্তে সমস্যার কথা জানতে চাইলাম।
“প্রথমে এটা খুবই কঠিন ছিল কিন্তু পরে আমরা কিছু নির্যাতিত ও তাদের পরিবার যারা এখনো বেঁচে আছেন তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হই। আমাদের দেশে বেশিরভাগ লোক ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল। ২৫ এর সাথে ৪০ যোগ করলে হয় ৬৫। আমাদের দেশে ৬৫ বছর কিছুই না। আমরা বলতে পারবো না যে বেশিরভাগ মানুষের স্মৃতি মিথ্যা বলছে। মানুষের এখনো সব মনে আছে। অনেক নির্যাতিত ও তাদের পরিবার এখনো বেঁচে আছে আর তারা প্রত্যক্ষদর্শী।”
নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ বলেছে আন্তর্জাতিক মানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের কিছু প্রক্রিয়ায় সংশোধন আনতে হবে। তবে ট্রাইব্যুনালের যুক্তি হচ্ছে এটি জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কাজেই তাদের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণের প্রয়োজন নেই।
বিচারকাজ কয়েক মাস ধরে চলার কথা।
এশিয়া কলিং এর জন্যে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ডেভিড বার্গম্যান।










